নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নে রপ্তানিমুখী একটি তার উৎপাদন কারখানায় হামলা, ভাঙচুর ও প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে অবস্থিত শারীরিক প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা মনোয়ার হোসেন অপুর মালিকানাধীন ‘বিএলও ওয়্যার নেইল ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই তাণ্ডব চালানো হয়। বর্তমানে কারখানাটি শিল্প পুলিশের পাহারায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু করেছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুনের নাম ব্যবহার করে স্থানীয় একদল লোক ১০ লাখ টাকা এককালীন চাঁদা এবং প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে মাসোহারা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ১৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে একদল সশস্ত্র লোক কারখানায় হামলা চালায়। তারা কারখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যবস্থাপক ও কর্মচারীদের মারধর করে। এরপর সিসিটিভি ক্যামেরা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ট্রাক এনে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকার কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মালিক মনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, হামলার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ বারবার ফোন দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দুই ঘণ্টা পর। ততক্ষণে হামলাকারীরা মালামাল লুট করে নির্বিঘ্নে চলে যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা করার সময় রূপগঞ্জ থানার ওসি উপজেলা বিএনপির সভাপতির নাম বাদ দিতে বাধ্য করেন। পরে ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বেলায়েত আকনকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
আসামিদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতির ভাই ও ভাতিজাসহ তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা রয়েছেন। তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন চাঁদা দাবি ও হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কারখানাটিতে ক্ষতিকর ব্যাটারি তৈরি করা হয় বলে তিনি শুনেছেন, যদিও মালিক পক্ষ বলছে তারা ১২টি দেশে রপ্তানিযোগ্য জিআই তার উৎপাদন করেন। এদিকে, প্রধান আসামি বেলায়েত আকনকে ধরেও পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা থানা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মামুন মাহমুদ জানিয়েছেন, বিষয়টি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দলীয় পরিচয়ে অপরাধ করে কেউ ছাড় পাবে না এবং দলগতভাবেও এই ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনে মামলাটি অন্য সংস্থায় হস্তান্তরের চিন্তা করছে।







