ইরান এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা ভবিষ্যতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি দাবি করেন, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তারা আরও উন্নত ও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছে, যা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে মার্কিন মূল ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার মধ্যম ও স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তবে ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব প্রায় ৬ হাজার মাইলের বেশি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান চাইলে ২০৩৫ সালের মধ্যে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দুই দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করুক, তবে ইরান তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করে এই শর্ত মানতে নারাজ। এর আগে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছিল, যা তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ বড় ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, আলোচনা সফল না হলে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রাখা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।







