যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে কোরীয় উপদ্বীপের কাছে হলুদ সাগরের আকাশসীমায় দুই দেশের যুদ্ধবিমানের মধ্যে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবারের এই ঘটনায় কোনো সংঘর্ষ না ঘটলেও এই অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে দুই দেশের মধ্যেকার স্নায়ুযুদ্ধের বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর (U.S. Forces Korea) সর্বোচ্চ ১০টি F-16 যুদ্ধবিমান হলুদ সাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় টহল দিতে শুরু করে। মার্কিন বিমানগুলো চীনের ঘোষিত আকাশ প্রতিরক্ষা চিহ্নিতকরণ এলাকা বা এডিআইজেড (ADIZ)–এর অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছিল।
মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তাদের বিমানগুলো দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের এডিআইজেড-এর মাঝামাঝি এমন একটি অবস্থানে ছিল যেখানে দুই দেশের আকাশসীমা একে অপরের সঙ্গে মিলে যায় না। তবে চীনের সীমান্ত ঘেঁষে এতগুলো মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বেইজিংকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।
মার্কিন বিমানগুলোর উপস্থিতির পরপরই চীন নিজেদের যুদ্ধবিমান আকাশে উড়িয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে দুই দেশের শক্তিধর যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য একটি মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়। এটি আকাশপথে বড় ধরনের কোনো সংঘাতের রূপ নিতে পারত বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
অবশেষে কোনো পক্ষই একে অপরের এডিআইজেড-এর ভেতরে প্রবেশ করেনি এবং উভয় পক্ষই সংযম প্রদর্শন করায় পরিস্থিতি আর এগোয়নি। তবে এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে দুই পরাশক্তির মধ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বিদ্যমান।







