ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ‘মোহনলাল জিউর মন্দির’ দখলের চেষ্টায় অভিযুক্ত শহিদ মিয়াকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে প্রচার করা হলেও অনুসন্ধানে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ভারত থেকে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এই ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বুধবার সরাইলের অরুয়াইল ইউনিয়নে মন্দিরের সম্পত্তি ও খাল উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ওই মিছিলে শহিদ মিয়া ও তাঁর সহযোগীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযুক্ত শহিদ মিয়ার সাথে জামায়াতে ইসলামীর কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহিদ মিয়া বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা বরং বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকতে পারেন। মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পরেশ ঘোষ জানিয়েছেন, শহিদ মিয়ার ছেলেরা বিএনপি করেন এবং তাঁরা এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে, ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু ইসমাইলের দাবি, শহিদ মিয়া স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সেখানে শহিদ মিয়ার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন যে, শহিদ মিয়াকে কখনও জামায়াতের কোনো কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি।
সুতরাং, মন্দির দখলের চেষ্টায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘জামায়াত নেতা’ হিসেবে উপস্থাপন করাটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।







