বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের আইনি বৈধতা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করছে। আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে এই অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারিত হবে।
আইনজ্ঞ শাহদীন মালিকের মতে, সংসদ বসার ৩০ দিনের মধ্যে যে অধ্যাদেশগুলো অনুমোদিত হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জারি করা এই বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলোই সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশ নিয়ে বিএনপির দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে।
বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর ২১২ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি, যা এই ইস্যুতে তাদের কঠোর অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। তবে জামায়াত ও এনসিপি জোটের নির্বাচিতরা শপথ নিয়েছেন। গণভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় এলেও, এর আইনি ভিত্তি দেওয়া নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে।
অন্যদিকে, বহুল আলোচিত ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’ নিয়ে বিএনপির অবস্থানে নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিতে এই অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঢালাও দায়মুক্তির বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মতো স্পর্শকাতর অধ্যাদেশগুলো নিয়েও সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বয়সের সময়সীমা কমালে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। আবার আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে কতটা জায়গা দেওয়া হবে, সেটিও একটি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরকার কেবল প্রয়োজনীয় এবং সংবিধানসম্মত অধ্যাদেশগুলোই আইনে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে। যে সব অধ্যাদেশ সংসদ থেকে আইনি ভিত্তি পাবে না, সেগুলোর অধীনে অতীতে হওয়া কর্মকাণ্ডের বৈধতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।







