ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেস তীব্র নিন্দা জানালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস এই হামলাকে ‘যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই পরিচালিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে এভাবে সামরিক হামলার মাধ্যমে হত্যা করা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। দলটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে এমন এক সংকটে ঠেলে দিতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করে দেবে। আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করে দলটি।
অন্যদিকে, খামেনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর থেকে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। যদিও শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি, তবে খামেনির মৃত্যু প্রসঙ্গে তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় ভারত অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই নীরবতার পেছনে রয়েছে জটিল কৌশলগত সমীকরণ। একদিকে জ্বালানি আমদানি এবং চাবাহার বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে ইরানের সাথে ভারতের দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে নয়াদিল্লির বর্তমান অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদারিত্ব। এই দুই পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই মোদি সরকার সরাসরি কোনো পক্ষ নিতে চাইছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ সংঘাত ইতিমধ্যে বিশ্ববাজার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে এর ধাক্কা দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় ভারত শেষ পর্যন্ত ইরানের সাথে তার ঐতিহ্যগত সম্পর্ক নাকি পশ্চিমা মিত্রদের সাথে ঘনিষ্ঠতা—কাকে অগ্রাধিকার দেয়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।







