ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন যে, বর্তমান যুদ্ধের সূচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল করলেও এর সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগ্রাসনকারীদের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধের পরিণতি তাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
আব্বাস আরাকচি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, গত দুই দশকে আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরাজয় থেকে ইরান পর্যাপ্ত শিক্ষা নিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, রাজধানী তেহরানে বোমা হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বা প্রতিরোধের মনোবল কোনোভাবেই নষ্ট করা সম্ভব হবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বিশেষ প্রতিরক্ষা কৌশলের কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের বিকেন্দ্রীভূত ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা খণ্ড খণ্ড প্রতিরক্ষা কাঠামোর কারণে ইরান যুদ্ধের ময়দানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এই কাঠামোর শক্তিতেই তেহরান নির্ধারণ করবে যে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় এই সংঘাতের ইতি টানা হবে। তার এই বক্তব্যে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। জেনেভায় গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও এই আকস্মিক সামরিক অভিযানের ফলে কূটনৈতিক সেই প্রক্রিয়াটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইসরায়েল ও মার্কিন এই আগ্রাসনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডারসহ শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এর জবাবে ইরান ইতিমধ্যে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ শুরু করেছে, যার আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিভিন্ন ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তু ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।







