ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানকে ঘিরে মার্কিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে এক চাঞ্চল্যকর ধর্মতাত্ত্বিক প্রচারণার খবর সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটির কমান্ডাররা তাদের সৈন্যদের তালিম দিচ্ছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ মূলত একটি “খোদায়ী ফয়সালা”। তারা এই সংঘাতকে বাইবেলে বর্ণিত “আমাগেডন” বা ইসলামের পরিভাষায় “মালহামাতুল কুবরা” (মহাপ্রলয়)-এর সাথে সম্পর্কিত করছেন।
মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (MRFF) জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে মার্কিন সেনাদের কাছ থেকে ১১০টিরও বেশি লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক কমান্ডার দাবি করছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “যিশু খ্রিস্ট বা ঈসা (আ.)-এর পক্ষ থেকে মনোনীত করা হয়েছে”। তাদের মতে, ট্রাম্পের কাজ হলো ইরানে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে সেই মহাপ্রলয় বা আখেরী জামানার সূচনা করা।
এই উগ্র ধর্মীয় প্রচারণা নিয়ে মানবাধিকার ও সামরিক অধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৈন্যরা অভিযোগ করেছেন, পেশাদার সামরিক প্রশিক্ষণের বদলে তাদের ওপর এই বিশেষ ধর্মীয় মতবাদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একে বাইবেল সমর্থিত একটি “ধর্মযুদ্ধ” বা ক্রুসেড হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সৈন্যদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে উগ্রতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের ধর্মীয় উন্মাদনা আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক পেশাদারিত্বের জন্য বড় হুমকি। যদি মার্কিন কমান্ড কাঠামোর একটি বড় অংশ এই সংঘাতকে ধর্মীয় অনিবার্য হিসেবে দেখতে শুরু করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে একটি অনিয়ন্ত্রিত ও দীর্ঘমেয়াদী মহাপ্রলয়ঙ্করী যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করতে পারে।







