যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অস্ত্র মজুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদন গতিশীল করতে প্রতিরক্ষা খাতের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক জরুরি বৈঠকে বসছে ট্রাম্প প্রশাসন। লকহিড মার্টিন, আরটিএক্স (রেথিওন) সহ প্রধান প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের এই বৈঠকে তলব করা হয়েছে। মূলত ইরান, ইউক্রেন এবং গাজা সংঘাতের কারণে মার্কিন অস্ত্রের ভাণ্ডারে যে টান পড়েছে, তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠাই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।
পেন্টাগন বর্তমানে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট (Supplemental Budget) প্রস্তুত করছে। এই বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করা হবে অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূর্ণ করতে এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধিতে। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যে, বছরে অন্তত ১,০০০টি টমাহক মিসাইল উৎপাদন করা হবে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন যেন তারা শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়ার চেয়ে অস্ত্র উৎপাদনকে বেশি প্রাধান্য দেয়। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যেসব কোম্পানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হবে বা কাজের গতি ধীর রাখবে, তাদের জরিমানা করা হতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে তাদের সাথে থাকা চুক্তি বাতিল করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং ইউরোপে রাশিয়ার সাথে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চাইছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।







