ইরানের তৈরি সাশ্রয়ী ও কার্যকর ‘শাহেদ’ (Shahed) ড্রোনগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এক বিশাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তারা কংগ্রেসের সামনে দেওয়া এক সাক্ষ্যে সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সব ড্রোন ভূপাতিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি এখন একটি জটিল “গণিতের হিসাবে” এসে ঠেকেছে। একদিকে ইরান বিপুল পরিমাণে সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে ঝাঁকে ঝাঁকে (Swarm) হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সীমিত সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এর ফলে মার্কিন ভাণ্ডারে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
সিনেটর মার্ক কেলি (Mark Kelly) মার্কিন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরাসরি বলেন, “আমাদের কাছে সীমাহীন সরঞ্জাম নেই।” কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, শাহেদ ড্রোনগুলো তাদের সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি সমস্যা তৈরি করছে। বিশেষ করে এর নির্মাণ ব্যয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয়ের চেয়ে অনেক কম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবেও চাপের মুখে পড়ছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শাহেদ ড্রোনের এই “লো-কস্ট” (Low-cost) যুদ্ধকৌশল যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ভবিষ্যতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো আরও সাশ্রয়ী লেজার প্রযুক্তি বা নতুন কোনো প্রতিরক্ষা কৌশলের কথা ভাবতে হবে।







