ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (IRGC) তাদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে প্রথমবারের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ও উন্নত প্রযুক্তির ‘হাদীদ-১১০’ (Hadid-110) মডেলের ড্রোন ব্যবহার করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি বর্তমানে ইরানের অস্ত্রাগারে থাকা দ্রুততম আত্মঘাতী বা কামিকাজে ড্রোন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ড্রোনের সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে এর অবিশ্বাস্য গতিবেগ। হাদীদ-১১০ ড্রোনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫১০ থেকে ৫১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর আগে বহুল আলোচিত ‘শাহেদ’ ড্রোনের গতি ছিল ঘণ্টায় মাত্র ১৮৫ কিলোমিটার, যা এই নতুন মডেলের তুলনায় অনেক কম।
গতির এই বিশাল পার্থক্যের কারণে হাদীদ-১১০ ড্রোনটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ ফাঁকি দিতে অনেক বেশি সক্ষম। শাহেদ ড্রোনের তুলনায় প্রায় তিন গুণ দ্রুতগতিসম্পন্ন হওয়ায় শত্রুপক্ষের রাডারে ধরা পড়লেও এটি ধ্বংস করার জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনী খুব সামান্য সময় পাবে।
ইরানি সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, গতির পাশাপাশি এই ড্রোনের নির্ভুল লক্ষ্যভেদের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। এটি মূলত দীর্ঘ পাল্লার এবং উচ্চ গতির হামলার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমা সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই ড্রোনের অভিষেককে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, হাদীদ-১১০ এর মতো দ্রুতগতির ড্রোন মোতায়েন করার ফলে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।







