হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইরান যুদ্ধ বিষয়ক বক্তব্যে হাততালি দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির এমএলএস শিরোপা জয় উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও সামরিক বক্তব্যের সময় মেসির প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প যখন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও আমাদের ইসরায়েলি সহযোগীরা মিলে শত্রুকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে,” তখন পাশে দাঁড়িয়ে মেসিকে হাততালি দিতে দেখা যায়। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময় মায়ামির অন্য খেলোয়াড়রাও করতালি দেন। ট্রাম্প গত শনিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার দম্ভোক্তি করেন, যে হামলায় ইতিমধ্যে ১৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
৩৮ বছর বয়সী মেসির ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “লিওনেল মেসি, হোয়াইট হাউসে আপনাকে স্বাগতম। আপনি এখানে এসেছেন এবং জয়ী হয়েছেন।” তবে মায়ামি অধিনায়কের এই ফুটবলীয় সাফল্যের চেয়েও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে তার রাজনৈতিক অবস্থান। বিশেষ করে ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর সামরিক হামলার কথা বলছিলেন, তখন মেসির মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের সমর্থনসূচক ভঙ্গি অনেকেই মেনে নিতে পারেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসির এই কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেছেন লেখক ও সাংবাদিকরা। ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক আলী আবুনিমাহ মেসিকে ‘অসার ও স্বার্থপর’ বলে মন্তব্য করেছেন। স্প্যানিশ সাংবাদিক লায়লা হামেদ এই ঘটনাকে ‘অদ্ভুত’ বর্ণনা করে মনে করিয়ে দেন যে, গত কয়েক দিনে মার্কিন হামলায় ইরানে ১৬৫ জন স্কুলছাত্রীসহ শত শত শিশু নিহত হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে হারিয়ে এমএলএস শিরোপা জেতে ইন্টার মায়ামি এবং মেসি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। সেই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই এই হোয়াইট হাউস সফরের আয়োজন করা হয়েছিল, যা এখন মেসির ক্যারিয়ারে এক বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।







