দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা মনে করছেন, যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবৈধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, তবে সেই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন এবং তার মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের বৈধতাও আইনি সংকটে পড়বে। এই অবস্থান প্রকারান্তরে শেখ হাসিনার সরকারকেই এখনো বৈধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি সূক্ষ্ম প্রয়াস বলে অনেকে ধারণা করছেন।
কালের কন্ঠের সম্পাদক হায়দার আলী এর আগেও ফ্যাসিবাদের তোষণ করেছিলেন। বর্তমানেও তিনি সেই পথেই হাটছেন এমন অভিযোগ আসছে বহু আগে থেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপিকে সতর্ক করে বলছেন যে, বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত তোষামোদে খুশিতে আত্মহারা হওয়া উচিত নয়। কারণ এই গোষ্ঠীটির মূল আনুগত্য এখনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুযোগ পেলেই তারা বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে এবং আবারও তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের ছক আঁকতে পারে বলে সাবধান করা হচ্ছে।
এই পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ। এই গ্রুপের ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপি পন্থী সাংবাদিক নেতা কাদের গণি, যিনি একইসাথে বিএফইউজে ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব। তার মতো একজন প্রভাবশালী বিএনপি পন্থী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে থাকার পরও কীভাবে কালের কণ্ঠ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাকে ‘অবৈধ’ বলার সাহস পেল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের দাবি, এই ধরণের প্রচারণার পেছনে একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক নীল নকশা থাকতে পারে। জুলাই-আগস্টের বিপ্লব ও পরবর্তী গণতান্ত্রিক অর্জনগুলোকে নস্যাৎ করতে এমন বিতর্কিত তত্ত্ব সামনে আনা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে বর্তমান শাসকদল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এই ধরণের মিডিয়া হাউজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







