লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালাতে গিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে লেবাননে পুনরায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও হিজবুল্লাহর সাথে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
আইডিএফ সেনাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও ঠিক কোন পরিস্থিতিতে বা কীভাবে তারা নিহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে যে চরম উত্তেজনা শুরু হয়েছিল, এই প্রাণহানি সেই সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বাহিনীর লজিস্টিক সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘মিসগাভ’ সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে। বৈরুত ও লেবাননের অন্যান্য শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাব দিতেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
এছাড়া হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা হাইফা নৌ-ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপ করেছে। উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরেই এই নৌ-ঘাঁটিটি হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। একই সাথে উত্তর ইসরায়েলের নাহারিয়া শহরে দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি, যা তাদের পূর্বঘোষিত সতর্কবার্তারই অংশ ছিল।
বর্তমানে সীমান্ত জুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি লড়াই অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলোতে সাইরেন ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি স্থল ও বিমান অভিযান আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।







