মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় পাকিস্তানে একাধিক কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সোমবার (৯ মার্চ) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।
জ্বালানি খরচ কমাতে আগামী দুই সপ্তাহ দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সশরীরে পাঠদান বন্ধ রেখে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যাতায়াত খাতে জ্বালানি খরচ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পাকিস্তান সরকার।
সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে অর্ধেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাসা থেকে (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) কাজ করবেন। এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সাপ্তাহিক ছুটি আরও একদিন বাড়ানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি ও কৃষি ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে বিলাসিতা বর্জনের বিকল্প নেই।
সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি অফিসের জন্য নতুন ফার্নিচার, এসি বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পণ্য কেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীসহ সব সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরের ওপরও জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসলামাবাদ।







