জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার সমর্থনে আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো সমর্থন আদায়ে তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ) আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিকানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরে সঙ্গী হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তারা আগামী শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ওই পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে তুরস্ক ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করা।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সভাপতি পদে নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে তুরস্ককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে। আঙ্কারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ঢাকা এখন চাইছে, মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুরস্কের যে প্রভাব রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে অন্যান্য বন্ধু দেশগুলোর ভোটও নিশ্চিত করতে।
দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বৈঠকে বৈশ্বিক রাজনীতির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় স্থান পাবে। এর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা মতবিনিময় করবেন।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে যে তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক ও সমরাস্ত্র খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বিশেষভাবে আগ্রহী। এর আগে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাত ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশে উন্নত সমরাস্ত্র বিক্রির বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরেও বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোয় এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে। উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের গৌরব উজ্জ্বল করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পর আবারও সেই কৃতিত্ব অর্জনে মরিয়া ঢাকা।







