দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সংসদ আজ তার প্রথম অধিবেশন শুরু করেছে। এটি নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে গণ্য হলেও, প্রথম দিনের অধিবেশনের ঘটনাবলি রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
প্রথম দিনের অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা ছাড়াই সভাপতি মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে স্পিকার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথম দিনের প্রথম অধিবেসনের শুরুতেই বিরোধী দলের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা না করে সভাপতি মনোনয়ন দেয়া এবং হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে স্পিকার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে বিএনপি অনেকগুলো বার্তা দিল।
আগামীতে দেশ এবং সংসদ কীভাবে চলবে তারও একটি আভাস পাওয়া গেল। জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে সামনের রাজনীতি যতটা ইতিবাচক হবে বলে আশা করা হয়েছিল, ততটা নাও হতে পারে বলেই আমার ধারনা।
বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সভাপতি মনোনয়নকে সমর্থন জানিয়ে বলেন,“আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও বিধি অনুযায়ী আজকের এই মহান সংসদে সভাপতি করার জন্য নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। উনি অত্যন্ত একজন সজ্জন ও প্রাচীন রাজনীতিবিদ। উনি যেই দলই করুন না কেন, দেশের মানুষের তার প্রতি আস্থা এবং সমর্থন রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তাবকে সমর্থন জানাই।”
তবে তিনি এও উল্লেখ করেন, “এটি আরও ভালো হতো যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বা তার প্রতিনিধি এই বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে কিছুটা আলোচনা করতেন। আমরা নিশ্চয়ই তখনো এটিকে সমর্থন দিতাম। আশা করি, আগামীতে সরকারি দল বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করলে সংসদের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।”
রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, নতুন সংসদে দূরদর্শী চিন্তা এবং অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানদের অভাব দেশের জন্য রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে যে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কার এবং সংহতির প্রত্যাশা ছিল, তা এই প্রথম অধিবেশনের প্রক্রিয়া অনুযায়ী পুরোপুরি বাস্তবায়িত নাও হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “সংসদে কার্যকর বিতর্ক এবং যুক্তিসম্মত সমন্বয়হীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ আগামী দিনের রাজনীতি ও নীতি প্রণয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের জন্য এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যেতে পারে।”
নাগরিকদের মধ্যে এই প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটি রাষ্ট্রক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণে দৃঢ়তার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আগামী অধিবেশনগুলোতে সরকারি দল বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সহমত তৈরি করলে সংসদের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ এবং সমন্বিত হবে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্থিতিশীল করবে।







