ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য হয়েছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
আমি ড. এ.বি.এম. ওবায়দুল ইসলাম–এর গবেষণা কাজ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে তার Google Scholar প্রোফাইল খুঁজে দেখলাম। সাধারণত একজন গবেষকের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন সংখ্যা, h-index ইত্যাদি জানার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো Google Scholar।
অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ড. এ.বি.এম. ওবায়দুল ইসলাম–এর নামে কোনো Google Scholar প্রোফাইল খুঁজে পেলাম না।
তার ঢাবি ফ্যাকাল্টি প্রোফাইল (Professor (Deputation), Physics) থেকে জানতে পারলাম তিনি Toyama University, Japan থেকে ১৯৯৯ সালে Ph.D. করেছেন Materials Engineering-এর উপর।
Toyama University-এর সাইটে ডিরেক্ট alumni প্রোফাইল না পেলেও, Toyama University-এর অফিসিয়াল PhD graduates list-এ তার নাম + exact thesis title + date দেখলাম আছে।
থিসিস: “Surface modification of GaAs and CVD diamond by layered-compound GaS”।
পুরো থিসিস PDF পাবলিকলি ফ্রি অ্যাক্সেসে অনলাইনে পেলাম না। হয়তোবা এটা ইউনিভার্সিটি রিপোজিটরি বা লাইব্রেরিতে থাকতে পারে, কিন্তু ওপেন অ্যাক্সেস নয়।
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন ভিসি যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব দেন, তখন তার শিক্ষাগত ও গবেষণাগত কাজ সম্পর্কে মানুষের জানার আগ্রহ থাকা খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে তার পিএইচডি থিসিস বা গবেষণা কাজগুলো যদি পাবলিকলি অ্যাক্সেসযোগ্য থাকে, তাহলে শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাধারণ মানুষ সেগুলো পড়তে পারে এবং তার গবেষণার মান ও অবদান সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেতে পারে।
আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ভিসিদের থিসিস বা প্রধান গবেষণা কাজগুলো পাবলিকলি উন্মুক্ত থাকা উচিত। এতে কোনো অসম্মান হয় না, বরং স্বচ্ছতা বাড়ে এবং নতুন প্রজন্মের গবেষকরা সেগুলো থেকে শিখতে পারে।
বিশ্বের অনেক বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়, ভিসি বা প্রফেসরদের থিসিস, গবেষণা প্রবন্ধ ও একাডেমিক কাজ অনলাইন আর্কাইভে সংরক্ষিত থাকে, যাতে যে কেউ চাইলে সেগুলো পড়তে পারে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে ড. এ.বি.এম. ওবায়দুল ইসলাম
এমন এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করছেন
যার ২০২৬ সালে ranking হলো পৃথিবীতে ১৫০০ এর উপরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ranking খারাপ।
ড. এ.বি.এম. ওবায়দুল ইসলামের CV (BOU সাইট থেকে) পড়ে দেখলাম। ওবায়দুল ইসলাম দাবি করছেন University of Twente-এ ২০১২-এ Erasmus Mundus-এ postdoc করেছেন।
কিন্তু University of Twente-এর অফিসিয়াল সাইটে (utwente.nl) বা repository-তে তার নাম, postdoc position, বা Erasmus Mundus fellowship-এর কোনো রেকর্ড নেই।
সংশ্লিষ্ট একটা পেপার (Characterization of Single Step Electrodeposited Cu₂ZnSnS₄ Thin Films, J. Optics 2018) আছে যেখানে co-authors Twente-এর, কিন্তু তার affiliation শুধু University of Dhaka. Twente-এর কোনো mention নেই। এটা শুধু remote collaboration হতে পারে, কিন্তু “Postdoctoral research” + “Fellowship” দাবি অতিরঞ্জিত।
CV-তে Sheffield Hallam University-এ ২০০৫-০৬-এ Commonwealth Fellowship-এ postdoc দাবি করা হয়েছে।
কিন্তু Sheffield Hallam University-এর সাইট (shu.ac.uk) বা repository-তে তার নাম, fellowship, বা affiliation-এর কোনো উল্লেখ নেই।
২০০৫-২০০৬ সময়ে তার কোনো পেপার Sheffield Hallam থেকে প্রকাশিত হয়নি (সব DU affiliation)।
Commonwealth Fellowship-এর independent proof (যেমন ACU/CSFP list-এ) পাওয়া যায়নি তার নামে এই সময়ে।
CV-তে Rajasthan University-এ ১৯৯২-এ ICTP fellowship-এ Research Associate দাবি।
University of Rajasthan-এর সাইটে (uniraj.ac.in) বা ICTP-এর রেকর্ডে কোনো উল্লেখ নেই। ১৯৯২-এর কোনো paper এই affiliation-এ নেই।
CV-তেAbdus Salam ICTP, Trieste, Italy (Jun–Aug 2003 Visiting Researcher as Regular Associateship)দাবি করা হলেও ictp.it সাইটে associate/visiting list বা তার নামের কোনো রেকর্ড নেই। ২০০৩-এর কোনো পেপার ICTP affiliation-এ নেই।
ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও নেতৃত্ব দেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাগেরহাট-৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রাপ্তিতে তিনি আলোচনায় ছিলেন।
ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে যিনি থাকবেন, তার গবেষণা কাজ, একাডেমিক সততা ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়া উচিত।
একজন উপাচার্য শুধু প্রশাসনিক প্রধান নন; তিনি মূলত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৌদ্ধিক ও গবেষণার মানের প্রতীক। তার গবেষণা, প্রকাশনা, একাডেমিক অবদান এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্পৃক্ততা থেকেই অনেক সময় বোঝা যায় বিশ্ববিদ্যালয়টি কোন মানসিকতা ও মানদণ্ড অনুসরণ করছে।
বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেখা যায়, উপাচার্য সাধারণত উচ্চমানের গবেষক, যাদের গবেষণা কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, সহজে যাচাইযোগ্য এবং গবেষণা জগতে প্রভাবশালী। বিএনপির নিয়োগ গুলো দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে তুলনামূলক শিক্ষিত এবং গুনি লোকজন এই দলে সবচেয়ে কম। নাহলে এইরকম অযোগ্য একজন মানুষকে ভিসির চেয়ারে বসিয়ে দেই? একজন ও নর্থ আমেরিকান ডিগ্রি হোল্ডার খুজে পায় নাই।
মুক্ত চিন্তা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন একটি অনিরাপদ দেশ। যে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ হয় দলিও চাটুকারিতার মাপকাঠিতে, সে দেশে কিছু ছাত্র নামধারী অমানুষ দলিও চাটুকারিতা করতে পশুর থেকেও খারাপ কাজ করবে এটাইতো স্বাভাবিক। উচ্চ শিক্ষার ১২ টা বাজার শুরু হলো।







