নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ভাতার টাকা এক বছর ধরে অন্যের মোবাইল নম্বরে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া ফারহানা (১৭) বড়তলি বানিহারি ইউনিয়নের শুকদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তার বাবা খোকন মিয়া অভিযোগ করেন, মেয়ের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য মাকসুদা আক্তার তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেন।
পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবেদন জমা দেওয়া হলেও দীর্ঘদিন ভাতা না পেয়ে খোকন মিয়া সমাজসেবা কার্যালয়ে খোঁজ নেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এক বছর আগেই তার মেয়ের ভাতা চালু হয়েছে। তবে সেই টাকা নিয়মিত অন্য একটি মোবাইল নম্বরে পাঠানো হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, নম্বরটি পাশের বাড়ির সাইদুর মিয়ার। বিষয়টি জানালে তিনি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন খোকন মিয়া। পরে বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাইদুর মিয়া দাবি করেন, তিনি ভেবেছিলেন নিজের ভাতার টাকা তার নম্বরে আসছে। তিনি জানান, হিসাব যাচাই করে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, টাকার বিনিময়ে ভাতার কার্ড করে দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে মাকসুদা আক্তার বলেন, বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং পূর্ববর্তী সমাজসেবা কর্মকর্তার সময় এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সমাজসেবা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনা ভাতা ব্যবস্থাপনায় তদারকির ঘাটতির দিকটি সামনে এনেছে। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।







