১০ বছরের সাইফান আবদুল্লাহ বারবার প্রশ্ন করে, “বাবা কেন ফাঁকি দিল?”—যেখানে তিন বছরের ছোট ভাই শাদমান প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে বাবার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। তবে এই চাওয়াগুলো আর পূরণ হবে না। তারা হচ্ছেন কৃষিবিদ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের দুই ছেলে।
শহিদুল ইসলামের লাশ ২৩ জানুয়ারি মাদারীপুরের শিবচর থানার পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে উদ্ধার করে। এই ঈদেই তার দুই সন্তান প্রথমবার বাবার অনুপস্থিতিতে উৎসব উদযাপন করছে।
শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শাম্মী আকতার বলেন, “ছেলেদের নিয়ে ঈদের বাজার করার মতো পরিস্থিতি আমরা এখন নেই। তারা ছোট, বুঝতে পারছে না বাবা নেই। বড় ছেলে মানলেও মানতে পারছে না, চিৎকার–চেঁচামেচি করছে।”
শহিদুল ইসলাম আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম গবেষণাকেন্দ্রের সাবেক রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর ছিলেন। ২১ জানুয়ারি ঢাকার গুলশান থেকে বরিশাল ফেরার পথে তিনি নিখোঁজ হন। ২৩ জানুয়ারি শিবচর থানার পুলিশ ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ঢাল থেকে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্ত করা হয় শহিদুল ইসলামের হিসেবে।
শহিদুল ছিলেন বরিশালের আলেকান্দা এলাকায় কর্মরত এবং পরিবারসহ থাকতেন। প্রকল্প শেষ হওয়ায় তিনি নিজস্ব কৃষি খামার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমানের বড় ছেলে শহিদুলের মৃত্যুতে পরিবার শূন্যতায় ভুগছে।
শহিদুল ইসলামের নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি ঢাকায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের শাখায় যাচ্ছিলেন। ফোন দুপুর ১২টা থেকে বন্ধ থাকায় নিখোঁজ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২৩ জানুয়ারি মাদারীপুরে লাশ উদ্ধার হলেও পুলিশ সূত্রে তথ্য খুব সীমিত।
শাম্মী আকতার অভিযোগ করেন, “গোলশান থানার সংশ্লিষ্টদের ‘ঠেলে ঠেলে’ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে হয়েছে। শহিদুলকে সর্বশেষ তুরাগ পরিবহনের বাসে উঠতে দেখা গেছে। এরপর আর কোনো ফুটেজ বের করা হয়নি। ফোনের সর্বশেষ লোকেশন কেরানীগঞ্জে দেখা গেছে।”
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনও হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিসেরা প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে।
শহিদুল ইসলামের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই সন্তান পটুয়াখালীর শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন। বড় ছেলে সাইফান চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। শ্বশুরবাড়িতে শহিদুলের শুরু করা খামারের কাজ দেখভাল করছেন।
শাম্মী আকতার বলেন, “আমার মা মারা গেছেন, বাবা বয়স করেছে, একমাত্র ভাই ছোট। ছোট দুটি সন্তান নিয়ে অজানা আশঙ্কায় দিন পার করতে হচ্ছে। এখন শুধু জানতে চাই আমার স্বামীকে কে, কেন, কীভাবে মারল?”
শহিদুল ইসলামের নিখোঁজ থেকে মৃত্যুর এই ঘটনা পরিবারে শোক ও রহস্যের ছাপ ফেলেছে, আর তদন্ত এখনও স্থবিরতার মধ্যে রয়েছে।







