অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংসদীয় বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে শুরু হয়। গত ১২ মার্চ সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সংসদ ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক স্থায়ী কমিটিগুলো এখনো গঠিত না হওয়ায় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তিনি আরও বলেন, কোন অধ্যাদেশ সরাসরি গ্রহণযোগ্য, কোনগুলো সংশোধন করে নেওয়া যেতে পারে এবং কোনগুলোতে আরও পরিবর্তন প্রয়োজন—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অধ্যাদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করা হচ্ছে, আবার কিছুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন রয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত বাতিলের বিষয়ও সহজেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে বিশেষ কমিটিকে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। বর্তমান অধিবেশন ১২ তারিখ শুরু হয়ে ২৯ তারিখ আবার বসবে—এই সময়ের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এই বৈঠকের মাধ্যমে অধ্যাদেশ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। সংসদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে রাষ্ট্রপতি জারি করা অধ্যাদেশগুলো অধিবেশনের প্রথম দিনেই উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলো অনুমোদন না পেলে আইনি বৈধতা হারায়। এ কারণেই উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠিয়ে দ্রুত পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।







