যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে, এমন ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ)। তবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চললেও ইরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা সংলাপের কথা অস্বীকার করেছে। এর মধ্যেই সংঘাত থামাতে তুরস্ক, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, কোথায় হতে পারে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা।
সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়েও চলছে নানা জল্পনা। গত ফেব্রুয়ারিতে ওমান-এর মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলাকালেই হামলা শুরু হয়। সে কারণে মাস্কাটকে এখন আর সম্ভাব্য আলোচনাস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে। তেহরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে ইসলামাবাদ শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে চাইছে। এমনকি সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে ইসলামাবাদের নামও প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রোববার (২২ মার্চ) ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। আর সোমবার (২৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন। ঠিক সেই সময়ই ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র পরই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ইরান তা অস্বীকার করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কিছু বন্ধুরাষ্ট্রের মাধ্যমে বার্তা এলেও ইরানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। একই কথা বলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ—তার মতে, এসব ‘ভুয়া তথ্য’ প্রচারের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নেপথ্যে তেহরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের দূতদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সম্প্রতি রিয়াদে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করলেও বিস্তারিত জানাননি।
অন্যদিকে তুরস্ক ও মিশর-সহ আরও কয়েকটি দেশও উত্তেজনা কমাতে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, এসব অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা, যা প্রকাশ্যে আনা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও দ্রুত যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কম। চ্যাথাম হাউস-এর গবেষক সানাম ভাকিল বলেন, বিভিন্ন দেশ চেষ্টা চালালেও এখনই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। তার মতে, উভয় পক্ষই এখনো ছাড় দেওয়ার মানসিকতায় নেই।
সাধারণত কাতার ও ওমান এই ধরনের মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনো সীমিত।







