ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচনী বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাফাজুল মিয়া (৫০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হলে নিহতের এই সংখ্যা তিন হয়।
নিহত মাফাজুল মিয়া গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি কাশেম মিয়ার সমর্থক ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার সংঘর্ষ চলাকালীন ঘটনাস্থলেই নিহত হন জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিবুল্লাহ এবং আক্তার মিয়া। নিহতদের মধ্যে হাবিবুর কাশেম মিয়ার পক্ষের এবং আক্তার মিয়া প্রতিপক্ষ রহিম তালুকদারের সমর্থক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী এম এ হান্নান এবং বিদ্রোহী প্রার্থী কে এম কামরুজ্জামানের সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। নির্বাচনের দিন জাল ভোটের অভিযোগে রহিম তালুকদারের এক সমর্থককে সেনাবাহিনী আটক করার ঘটনায় এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। কারামুক্ত হয়ে ওই সমর্থক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুললে শুরু হয় দফায় দফায় হামলা।
সবশেষ গত সোমবার রাত থেকে উভয় পক্ষ কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভাড়াটে লোকজন এনে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে টেঁটা, বল্লম ও চায়নিজ কুড়াল ব্যবহার করা হয়। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।







