বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে দীর্ঘ ১৮ বছর পর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে আয়োজিত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ২৬ মার্চের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী যুক্ত হলো।
বিগত বছরগুলোতে সাধারণত বিজয় দিবসে এই আয়োজন নিয়মিত থাকলেও স্বাধীনতা দিবসে তা বন্ধ ছিল। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালেও এমন আয়োজন দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবারের স্বাধীনতা দিবসকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও তিন বাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিরা এই কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই কুচকাওয়াজের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন। রমজানের শুরু থেকেই প্যারেড স্কয়ারে এর ব্যাপক প্রস্তুতি চলে এবং গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত মহড়া সম্পন্ন করা হয়।
জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এই বিশেষ কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট দেখতে সকাল থেকেই হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমান। দর্শকদের বসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় এবং অনেক দর্শনার্থীর হাতে ও মাথায় জাতীয় পতাকা দেখা যায়। উৎসবমুখর পরিবেশে সশস্ত্র বাহিনীর এই প্রদর্শনী সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।







