ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামরিক কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করছে তেহরান। ইরানের মালিকানাধীন খার্গ দ্বীপের দিকে কোনো বিদেশি শক্তি হাত বাড়ালে তার ‘হাত কেটে দেওয়া হবে’ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ইরানের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রতীকী ছবি শেয়ার করে এই বার্তা দেওয়া হয়। মূলত পারস্য উপসাগরের বিতর্কিত দ্বীপগুলোর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের অনমনীয় অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
শেয়ার করা ওই বিশেষ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হজরত আলীর (রা.) ঐতিহাসিক দুই মাথাওয়ালা তলোয়ার ‘যুলফিকার’ দিয়ে এক মার্কিন সেনার হাত কেটে দেওয়া হচ্ছে। এই আক্রমণাত্মক ও প্রতীকী ছবির মাধ্যমে ইরান বোঝাতে চেয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা অধিকার হরণের চেষ্টা চালানো হলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক দ্বীপগুলো নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান বরাবরই এসব দ্বীপকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং যেকোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে এই ধরনের প্রচারণামূলক ছবি এবং বার্তা দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি যুদ্ধের হুমকির পাশাপাশি এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা ‘পারসেপশন ওয়ার’ চালিয়ে ইরান তাদের আঞ্চলিক শক্তিমত্তার জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।







