ঈদের ছুটি শেষে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে করে কর্মস্থলে ফিরছিলেন খাইরুল ইসলাম খাঁ। কিন্তু দৌলতদিয়া ফেরিঘাট-এ পৌঁছে সেই যাত্রাই পরিণত হয় ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় বহু যাত্রী প্রাণ হারালেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান খাইরুল।
তিনি জানান, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সবকিছু ঘটে যায়। বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে এবং মুহূর্তের মধ্যে নদীতে পড়ে যায়। সেই সময় তিনি বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে পড়ে পানিতে পড়েন এবং সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
খাইরুল বলেন, “মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে গেল। কীভাবে নদীতে পড়ে গেলাম বুঝতেই পারিনি।” তবে তীরে ওঠার পর এক ব্যক্তি সাহায্যের নাম করে তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খোকসা উপজেলার বাসিন্দা খাইরুল ঢাকার একটি টেক্সটাইল কারখানায় কর্মরত। দুর্ঘটনার সময় বাসের প্রতিটি আসন যাত্রীতে পূর্ণ ছিল বলে জানান তিনি। বিশেষ করে নারী ও শিশু যাত্রীর সংখ্যা ছিল বেশি, যাদের অনেকেই বাসের ভেতরে আটকা পড়ে যান।
তিনি আরও বলেন, তার পাশের আসনের এক যাত্রী দুর্ঘটনার ঠিক আগে নেমে আবার উঠে বসেন। সেই সময় তিনি সিট ছেড়ে দাঁড়াতেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়, আর তিনি ছিটকে বাইরে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান।
এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটি চালক নিজেই চালাচ্ছিলেন এবং তিনি নিহত হয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।







