ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের সুপরিচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের ডিমোনা ও আরাদ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করে বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি বেসামরিক এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এই হামলায় ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সেই পুরোনো আশঙ্কাকেই সত্য প্রমাণ করেছে যে—বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান চাইলে ইসরায়েলের স্তরভিত্তিক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। একজন সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জানিয়েছেন যে, ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র যদি একযোগে ছোঁড়া হয়, তবে তা পুরোপুরি মোকাবিলা করা বর্তমানে ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব নয়।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এই সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটি শুধু আর্থিক খরচের নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পালটা ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ ধরে রাখাটাই এখন ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এর মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, আকাশ প্রতিরক্ষার এই দুর্বলতাগুলো নিয়ে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছাতে পারার বিষয়টি তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে আকাশ প্রতিরক্ষা মজুত কতটুকু সুরক্ষা দিতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।







