মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির মুখে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং মার্কিন সামরিক হুমকির মোকাবিলায় তারা এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় ইরানের এই পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও প্রকট হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সমর্থনে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মানদাব’ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এখন অবরুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। হুথিদের এই হুমকি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করেছে।
ইয়েমেনের হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করে, তবে তারা সরাসরি তেহরানের পক্ষে যুদ্ধে নামবে। হুথিরা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত করবে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান এই উত্তেজনা এখন এক বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামার শঙ্কা, অন্যদিকে হুথিদের সরাসরি যুদ্ধে নামার ঘোষণা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে অপূরণীয়।







