আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো আস্থা, নিয়মশৃঙ্খলা ও সময়মতো প্রতিশ্রুতি পূরণ। এই ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এলসির মাধ্যমে ব্যাংক আমদানিকারকের পক্ষ থেকে রপ্তানিকারককে নির্ধারিত শর্ত পূরণের পর সময়মতো অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ উঠেছে, কিছু ব্যাংক এলসি বিল গ্রহণ এবং নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করার পরও অর্থ পরিশোধে অযথা বিলম্ব করছে। পণ্য যথাযথভাবে সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে পেমেন্ট আটকে রাখা হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নীতিমালা, বিশেষ করে UCP 600-এর পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ব্যাংকিং খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করছে। এর ফলে বিদেশি সরবরাহকারীরা বাংলাদেশি ব্যাংকের এলসি গ্রহণে অনাগ্রহী হয়ে পড়তে পারেন অথবা অতিরিক্ত নিশ্চয়তা দাবি করতে পারেন, যা বাণিজ্য ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া এলসি পেমেন্টে বিলম্বের প্রভাব দেশের আমদানিকারক ও সাধারণ জনগণের ওপরও পড়ে। আমদানি ব্যয় বাড়লে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, যার চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর এসে পড়ে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকাংশেই আমদানি-রপ্তানিনির্ভর। তাই ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা সামগ্রিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকেও তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা উন্নত করতে হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এলসি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা জরুরি।
সর্বোপরি, সময়মতো এলসি পেমেন্ট নিশ্চিত করা শুধু ব্যাংকের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষার বিষয়। এ ক্ষেত্রে অবহেলা চলতে থাকলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।







