নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচরে ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মীকে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে আন্ডারচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভুক্তভোগী সদস্যরা এই বর্বরোচিত হামলার বর্ণনা দেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
হামলার শিকার নেতাকর্মীরা জানান, একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা বাংলাবাজার এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে সোহেল নামের এক ব্যক্তি তাদের আটকে রেখে একটি ক্লাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই হেলমেট পরিহিত একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, হকিস্টিক ও রড নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের নির্জন জায়গায় নিয়ে হাত ও চোখ বেঁধে ধাপে ধাপে নিষ্ঠুরভাবে মারধর করা হয়েছে।
আহতদের দাবি, আন্ডারচর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ সেলিম এবং তার অনুসারী সোহেল, রুহুল আমিন ও মামুন মেম্বারের ইন্ধনেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই এমন নির্যাতন করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. সোহেল নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু লোক তাকে খুঁজতে এসেছে শুনে তিনি সেখানে মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ কিছু বহিরাগত লোক এসে হামলা চালায় এবং তিনিও সেই হামলায় আহত হন। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুরো ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পক্ষের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।







