ঈদের ছুটিতে সড়ক ও নৌপথে অব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এবং জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তাঁরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে বলে জানা গেছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে ১৫ থেকে ১৬ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন। বৈঠকের মাঝখানে আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনলেও নিজে খুব বেশি কথা বলেননি।
বৈঠকে সংসদ সদস্যরা ঈদুল ফিতরের সময় সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় সড়ক, রেল ও নৌপথ-সংক্রান্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জনবল সংকটসহ কিছু সমস্যার কথা স্বীকার করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। দায়িত্বশীলরা জানান, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে কয়েকজন এমপি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও চোরাচালানের অভিযোগ তোলেন। তারা ডিজেল ও অকটেনের দাম কিছুটা কমানোর প্রস্তাব দেন এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বৈঠকের শুরুতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন পড়ে শোনান। তিনি এমপিদের মাঠপর্যায়ে ওই তথ্য তুলে ধরার অনুরোধ করেন। পরে প্রত্যেক সদস্যকে পত্রিকার একটি কপি দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয় তুলে ধরা হয়। এতে নেতৃত্বের দৃঢ়তার কথাও উল্লেখ করা হয়, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বক্তব্য দেন। তবে তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গ না থাকায় উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য দেবেন।
বৈঠকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বলা হয়, দেশে কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই; বরং কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করা হয়েছে। চোরাচালান এবং অতিরিক্ত মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল দেশে এসেছে এবং আরও আসছে বলে জানানো হয়।
চিফ হুইপ জানান, প্রতি মাসে সংসদ সদস্যদের জন্য নিয়মিত ব্রিফিং আয়োজন করা হবে, যাতে তারা সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত থাকতে পারেন এবং নিজ নিজ এলাকায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তেল চোরাচালান বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের একটি বড় সাফল্য। কৃষকদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে সরকার ভর্তুকি দিয়ে তেল সরবরাহ করছে।
সবশেষে, বৈঠকের শুরুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।







