একই নামের বিড়ম্বনায় প্রখ্যাত কবি ও শিক্ষাবিদ ড. দিলারা হাফিজের ভুয়া মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেছে বাংলাভিশন। বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (অব.)-এর স্ত্রী এবং ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলারা হাফিজের মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাভিশন অসাবধানতাবশত কবি ও শিক্ষাবিদ ড. দিলারা হাফিজের ছবি ব্যবহার করে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে এবং তার অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষী শোকগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
বিভ্রান্তির শিকার ড. দিলারা হাফিজ এই ঘটনায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বাংলাভিশন-এ তার হাস্যোজ্জ্বল ছবিসহ মৃত্যুর খবর দেখে মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তার খোঁজ নিতে থাকেন। জীবন্ত মানুষকে এভাবে সংবাদমাধ্যমে মৃত ঘোষণা করাকে তিনি চরম দায়িত্বহীনতা বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে এক ব্যক্তির খবরের সাথে অন্য ব্যক্তির ছবি জুড়ে দেওয়াকে তিনি সাংবাদিকতার অপেশাদার দিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ড. দিলারা হাফিজ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘দিলারা হাফিজ’ নামে দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন। একজন হলেন তিনি নিজে—যিনি একজন কবি, শিক্ষাবিদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি রফিক আজাদের স্ত্রী। আর সম্প্রতি ইন্তেকাল করা অন্যজন হলেন ইতিহাসবিদ ও ইডেনের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলারা হাফিজ, যার স্বামী বর্তমান সংসদের স্পিকার। বাংলাভিশন-এর মতো একটি দায়িত্বশীল নিউজ পোর্টাল কেন নূন্যতম তথ্য যাচাই না করে এমন ভুল করল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
নিজের মৃত্যুর ভুয়া খবর শুনে রসিকতা করে তিনি বলেন, মানুষের মৃত্যু সংবাদে নাকি আয়ু বাড়ে; তিনি বর্তমানে আল্লাহর রহমতে সুস্থ ও ভালো আছেন। তবে তার হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উৎকণ্ঠা দেখে তিনি এই বিভ্রান্তি দূর করতে কলম ধরেছেন। একইসাথে তিনি প্রয়াত অধ্যাপক দিলারা হাফিজের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাংলাভিশন-এর এই অসতর্কতার বিচারের ভার পাঠকদের ওপর ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। মানুষ যেন সংবাদমাধ্যমের ভুলের কারণে অহেতুক মানসিক কষ্টের শিকার না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা জরুরি। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে সংবাদমাধ্যমগুলো ছবি ও তথ্য ব্যবহারে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করবে।







