যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় ইরানজুড়ে ‘জানফাদা’ (Janfada) বা ‘জীবন উৎসর্গ’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ অভিযান শুরু হয়েছে। দেশটির নাগরিকদের কাছে পাঠানো একটি দেশব্যাপী খুদেবার্তায় ‘আমেরিকান-জায়নিস্ট’ হুমকির বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সামরিক ও প্রতিরক্ষামূলক কাজে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
একই সময়ে ইরানের ইসফাহান এবং এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মুখোশধারী নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি চৌকি বসিয়ে নজরদারি চালাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর চারপাশে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ)-এর তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এই প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সম্ভাব্য যে কোনো বিদেশি আক্রমণ মোকাবিলায় দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সরব উপস্থিতি জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরান সরকারের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন অনেক সামরিক বিশ্লেষক। স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের এই ডাক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে যাতে এই উত্তেজনা বড় কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ না নেয়।







