মানব পাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আরও ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানিতে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর একটি সিন্ডিকেটের মূল হোতা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও যুক্ত। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাসুদ বলেন, ‘ফালতু কথা।’
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে এখনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ বাকি রয়েছে—বিশেষ করে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কতজন কর্মী পাঠানো হয়েছে, কত টাকা নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। এ মামলার আরেক আসামির দেওয়া জবানবন্দিতে একটি বড় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল সংখ্যক কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলায় মাসুদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তার বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানানো হয়। তবে আদালত শুনানি শেষে ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি করে এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ করেছে। এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সচিব, সংসদ সদস্যসহ ১০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।







