জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন আইনি সিদ্ধান্তে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রভাব ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের চেয়ে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কঠোর সাজার পক্ষপাতী ছিলেন তিনি, যা সে সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল বলে ধারণা করা হয়। অনেকের মতে, তার রাজনৈতিক শক্তির পেছনে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রচ্ছন্ন সমর্থন ছিল, যার ফলে দলের ভেতরে ও বাইরে সবাই তাকে সমীহ করে চলত। সংসদে তার কথা বলার ভঙ্গি এবং আইনি মারপ্যাঁচের কারণে অনেক সিনিয়র নেতাও তার সামনে দাঁড়াতে সাহস পেতেন না।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমদের উত্থানকে অনেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সেই প্রভাবের সাথে তুলনা করছেন। মধ্যরাতে বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে তাকে নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশাসনে তার এই আকস্মিক ও শক্তিশালী অবস্থান তাকে এক ধরনের ‘ডি ফ্যাক্টো’ ক্ষমতার অধিকারী করে তুলেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই ক্ষমতার উৎস বা শক্তির খুঁটি কোথায়, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ এর পেছনে সেনাবাহিনীর সমর্থনের কথা ভাবছেন, আবার কারো মতে এর পেছনেও বিদেশি শক্তির প্রভাব থাকতে পারে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যেভাবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শেখ হাসিনাকে একচ্ছত্র ক্ষমতার দিকে ধাবিত করেছিলেন, বর্তমানে সালাহউদ্দিন আহমদও তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে একই ধরনের কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ সাজাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধছে।







