ইরানে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক গণভোটের বার্ষিকী ও ‘ইসলামিক রিপাবলিক ডে’ উপলক্ষে তেহরানের রাস্তায় নেমে ‘বিজয়’ উদযাপন করেছেন হাজার হাজার সরকারপন্থি মানুষ। মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস খামেনি অংশ নেন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই উদযাপনের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ও সংহতির জানান দিয়েছে দেশটির সরকার।
এই উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই বুধবার ভোরে তেহরানে অবস্থিত সাবেক মার্কিন দূতাবাস এলাকায় ভয়াবহ বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে। এলাকাটি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ওই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ ও ধোঁয়া দেখা গেছে। এই হামলার পর রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে দেশের সবচেয়ে বড় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পুনরায় প্রতিরোধের ডাক দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস খামেনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে সমর্থকদের মনোবল বৃদ্ধি করতেই তিনি রাজপথে নেমেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু বার্তা আদান-প্রদান হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি ইরান। এদিকে বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনি ঘোষণা করেছেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে রাজপথে অবস্থান করতে হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেহরানজুড়ে আইআরজিসি এবং তাদের সহযোগী বাহিনী ‘বাসিজ’ ব্যাপক টহল ও চেকপোস্ট বসিয়েছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ইরানের মিত্র ইরাকি বাহিনী ‘হাশদ আল-শাবি’র সদস্যদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। তারা বিভিন্ন পয়েন্টে খাদ্য ও সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সরকারবিরোধী যেকোনো আন্দোলন বা বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।







