দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। চৈত্রের তীব্র খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। গত দুই দিনের মতো আজ শনিবারও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগের দিনের তুলনায় আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার খুলনা ও রাজশাহী বিভাগসহ দেশের ২৭টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ ছিল। এর আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১৭। আজ সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়ছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, তাপপ্রবাহ আজও অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর পরিধি আরও বাড়তে পারে। তবে রোববার ও সোমবার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এবং মঙ্গলবার থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাপপ্রবাহ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় এবার দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা কম। কারণ তাপপ্রবাহের মধ্যেই মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বিস্তার লাভ করতে পারে। একইসঙ্গে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক তাপমাত্রার হিসাব অনুযায়ী, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানীতেও তাপমাত্রা বাড়ছে—শুক্রবার সর্বোচ্চ ছিল ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় ঢাকায় তাপমাত্রা কিছুটা কম, তবে ভ্যাপসা গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের আবহাওয়ায় গরমজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে, যা জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি মাঝারি তাপপ্রবাহ, ৪০ থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।







