ভূমিকম্পের মতো অনিবার্য দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের সুখবর নিয়ে এসেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মোল্লা। ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির এই শিক্ষার্থী ‘ভুবন’ নামক একটি বিশেষ ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন, যা ভূমিকম্পের ২০ থেকে ৯০ সেকেন্ড আগেই সতর্ক সংকেত দিতে সক্ষম। দেড় বছরের নিরলস গবেষণার পর উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিটি ভূ-অভ্যন্তরের সিসমিক ওয়েভ বিশ্লেষণ করে আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস দেয়।
ইব্রাহিম মোল্লা জানান, পশুপাখিরা যেভাবে ভূমিকম্পের প্রাথমিক কম্পন বা ‘প্রাইমারি ওয়েভ’ বুঝতে পারে, তার ডিভাইসটিও ঠিক সেই নীতিতে কাজ করে। আমরা সাধারণত যে ঝাঁকুনি অনুভব করি তা হলো ‘সেকেন্ডারি ওয়েভ’। এই মূল ঝাঁকুনি আসার আগেই ডিভাইসটি শনাক্ত করবে যে ভূমিকম্প হতে যাচ্ছে এবং বিকট সাইরেন বাজিয়ে মানুষকে সতর্ক করবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেস্টিংয়ে এই উদ্ভাবন প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে।
অভাবনীয় এই উদ্ভাবনের জন্য ইব্রাহিম মোল্লা ইতোমধ্যে বুয়েট ও এমআইএসটির মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন। বর্তমানে ডিভাইসটি ৩০ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা দিলেও তিনি মনে করেন, এটি যদি ফ্রন্টলাইনে মাটির নিচে স্থাপন করা যায়, তবে অন্তত ২ মিনিট আগে পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব। এই প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা গেলে তা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সক্ষমতার পরিচয় দেবে।
তরুণ এই উদ্ভাবক তার এই কার্যকর প্রযুক্তিটি দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় সরকারকে বিনামূল্যে উপহার দিতে চান। তিনি বিভিন্নভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা গেলে ‘ভুবন’ ডিভাইসটি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এবং মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।







