ইরানের নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ফাইবার গ্লাসের তৈরি বিশেষ বোটগুলো এখন মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লোহা বা স্টিলের পরিবর্তে ফাইবার গ্লাস দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই বোটগুলো ওজনে অত্যন্ত হালকা এবং আকারে ছোট, যা একে পানির ওপর বৈশাখের ঝড়ের মতো প্রচণ্ড গতি প্রদান করে। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে মুহূর্তের মধ্যেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে চোখের পলকে মিলিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এই নৌযানগুলোর।
এই বোটগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর রাডার ফাঁকি দেওয়ার ক্ষমতা। স্টিল না থাকায় রাডার তরঙ্গ এগুলো থেকে প্রতিফলিত হতে পারে না, বরং ফাইবার গ্লাস অনেক ক্ষেত্রে সেই তরঙ্গ শুষে নেয়। ফলে আধুনিক রাডার ব্যবস্থা অনেক সময় পানির ঢেউ আর এই বোটের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। এছাড়া ইরানের রয়েছে বিশেষ সেমি-সাবমার্সিবল বোট, যা শরীরের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পানির নিচে ডুবিয়ে রেখে কেবল এন্টেনা উঁচিয়ে চলতে পারে, যা একে আক্ষরিক অর্থেই ভুতুড়ে রূপ দিয়েছে।

আকারে ছোট হলেও এই বোটগুলো অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং ছোট টর্পেডো দিয়ে সজ্জিত। এগুলো মূলত ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ বা মৌমাছির মতো ঝাঁক বেঁধে আক্রমণের কৌশল ব্যবহার করে। একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজ হয়তো দু-একটি ছোট বোটের আক্রমণ ঠেকাতে পারে, কিন্তু যখন চারপাশ থেকে দশ-বিশটি বোট একসাথে ঘিরে ধরে আক্রমণ চালায়, তখন জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেই চাপ নিতে না পেরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। পশ্চিমারা তাই এই রহস্যময় নৌযানগুলোর নাম দিয়েছে ‘ঘোস্ট বোট’ বা ভুতুড়ে নৌকা।
ইরান দীর্ঘ সময় ধরে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে এই বিশেষ নৌ-কৌশল এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তারা আগে থেকেই জানত যে একদিন হরমুজ অবরোধের প্রয়োজন হতে পারে, আর সেই পরিকল্পনা থেকেই এসব আধুনিক ঘোস্ট বোট এবং ড্রোন বোট তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন জাহাজগুলোকে মাঝেমধ্যেই এই বোটগুলো ঘিরে ধরে আতঙ্ক তৈরি করে দ্রুত সটকে পড়ে, যা প্রমাণ করে যে আমেরিকা কল্পনা করার অনেক আগে থেকেই ইরান এই অসম যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছিল।







