আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর একমাত্র ছেলের ছবি দেখান এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, একটি মাত্র সন্তান হারিয়ে তাঁদের পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর কথায় ছিল অসহায়ত্ব আর গভীর বেদনার ছাপ।
জবানবন্দির একপর্যায়ে আব্দুল মতিন বলেন, স্বাধীন দেশে থেকেও তিনি তাঁর ছেলেকে নিরাপত্তা দিতে পারেননি—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় আফসোস। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এই দেশে ছেলেকে জন্ম দিলেন, যদি তাকে নিরাপদ রাখতে না পারেন।
তিনি জানান, তাঁর ছেলে শাহরিয়ার ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল এবং ঈশ্বরগঞ্জ আইডিয়াল কলেজ থেকে পরীক্ষা দিচ্ছিল। কয়েকটি পরীক্ষা শেষে অবসর পেয়ে সে ঢাকায় বাবার ভাড়া বাসায় আসে। পরে মিরপুরে খালার বাসায় বেড়াতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেয়। ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয় সে। দুই দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
জবানবন্দিতে আব্দুল মতিন অভিযোগ করেন, উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও কুপরামর্শের কারণে তাঁর ছেলেসহ সারা দেশে বহু আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
একই মামলায় সাক্ষ্য দেন সুমি আক্তার নামের আরেক ভুক্তভোগী। তিনি তাঁর স্বামী শহীদ আক্তারুজ্জামানের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী একজন খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন এবং ২৮ জুলাই সকালে বাসা থেকে বের হয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।
সুমি আক্তার বলেন, বিকেলের পর থেকে স্বামীর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধ্যায় একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, তাঁর স্বামী দুর্ঘটনায় পড়েছেন এবং তাকে ঢাকা মেডিকেলে যেতে বলা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে তিনি স্বামীর নিথর দেহ দেখতে পান। তাঁর স্বামীর মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল।
সাত বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে এখন কঠিন জীবনযাপন করছেন সুমি আক্তার। স্বামী হারানোর পর গ্রামে ফিরে গিয়ে ছাত্র পড়িয়ে কোনোভাবে সংসার চালাচ্ছেন বলে তিনি জানান। আদালতে দাঁড়িয়ে তাঁর কণ্ঠেও ছিল স্বজন হারানোর গভীর বেদনা আর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা।







