খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সভায় নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকার একের পর এক জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করে দেশকে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নেতারা অভিযোগ করেন, গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ এবং বিচার বিভাগ সংস্কার অধ্যাদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে।
জুলাই সনদ নিয়ে সমালোচনা
সভায় “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫”-কে “অন্তহীন প্রতারণার দলিল” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নেতারা দাবি করেন, এর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তারা বলেন, যদিও সনদে ২৫টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে, এর মধ্যে বিএনপির নামও রয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে দলটি ভিন্নমত জানিয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংশোধনের দাবি করছে, যা গণভোটের রায়ের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করা হয়।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কার
খেলাফত মজলিস নেতারা বলেন, জুলাই সনদের ৪৮টি প্রস্তাব গণভোটে অনুমোদিত হয়েছে। তাই নির্বাচিত সংসদকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে গণরায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসন নিয়ে উদ্বেগ
সভায় দেশের স্বাস্থ্যখাতের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতারা বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও সরঞ্জামের সংকটে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। হাম প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে এবং মশার উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে।
জ্বালানি তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়।
শিক্ষা খাতে সপ্তাহে তিনদিন অনলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্তকে “অপরিণামদর্শী” আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া হয়।
নির্বাচন ও অনিয়মের অভিযোগ
সভায় বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সভার নেতৃত্ব
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক নির্বাহী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। সভা পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
এতে নায়েবে আমির, যুগ্ম-মহাসচিবসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







