তীব্র অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা পাকিস্তানে এক বিচিত্র ও চমকপ্রদ দাবি উত্থাপিত হয়েছে। দেশটির কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও গণমাধ্যমের একটি অংশ সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবি তুলছে। বিশ্বশান্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে তাঁদের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননার দাবি জানানো হচ্ছে।
এই দাবির প্রবক্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান নেপথ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে। ফেডারেশন অব পাকিস্তান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মতো সংগঠনগুলো মনে করছে, পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কূটনৈতিক তৎপরতা না থাকলে এই অঞ্চলে আরও ভয়াবহ যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।
ব্যবসায়ী মহলের দাবি অনুযায়ী, সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশংসনীয় কাজ করছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গোপন সমঝোতা তৈরিতেও পাকিস্তান সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এই অবদানকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার এখনই উপযুক্ত সময় বলে তারা মনে করছে।
তবে এই দাবি ঘিরে খোদ পাকিস্তানেই ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রূপের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, পাকিস্তান যখন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট, সন্ত্রাসবাদ এবং আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতিতে জর্জরিত, তখন শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এমন আন্তর্জাতিক পুরস্কার দাবি করা অবাস্তব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই প্রচেষ্টাকে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে জনদৃষ্টি সরানোর কৌশল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।







