সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ১৪৫০ নটিক্যাল মাইল, যা ১২ নটিক্যাল মাইল গতির একটি তেলের জাহাজের জন্য মাত্র ৫ দিনের পথ। অন্যদিকে, ভারতের গুজরাটের জামনগর থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব দ্বিগুণ—২৯০০ নটিক্যাল মাইল। এর ফলে পরিবহন খরচ যেমন দ্বিগুণ হচ্ছে, তেমনি সময় লাগছে ১০ দিন।
পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি ভারত সরকারের ২২ শতাংশ ট্যাক্স এবং আদানি চুক্তির মতো কঠোর শর্তাবলি তেল আমদানির খরচকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো বিকল্প থাকতে কেন উচ্চমূল্যে গুজরাট থেকে তেল পরিশোধন করে আনতে হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে রুশ তেল পরিশোধন করছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি লাভজনক অপশন হতে পারত। কিন্তু সেই পথ না মাড়িয়ে কেন দীর্ঘপথ ও উচ্চমূল্যের বিনিময় বেছে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ দানা বাঁধছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে নতুন কোনো সরকারি রিফাইনারি কেন হলো না, তা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত ১৭ বছরে শেখ হাসিনা সরকার নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর চেয়ে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতেই বেশি আগ্রহী ছিল। নিজেদের রিফাইনারি থাকলে বাড়তি দামে বিদেশ থেকে তেল কেনার প্রয়োজন হতো না।







