জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে নসাৎ করতে এবং আধিপত্যবাদের পক্ষে একদল স্বার্থান্বেষী মহলের তৎপরতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, এই অভ্যুত্থান কেবল একটি দলের শাসনের অবসান ছিল না, বরং তা ছিল আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক বিশাল লড়াই। বর্তমানে এই অর্জনকে কালিমালিপ্ত করতে দেশি-বিদেশি এজেন্টের মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, এস আলম গ্রুপসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছে, তার একটি অংশ এখন অভ্যুত্থানবিরোধী প্রচারণায় ব্যয় করা হচ্ছে। এমনকি রাজনৈতিক ও সংবাদ মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশ থেকেও এই খাতে অর্থ আসছে। এর ধারাবাহিকতায় জুলাই জাদুঘর স্থাপনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা মনে করছেন।
সম্প্রতি বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর, সমকালের ফিচার সম্পাদক মাহবুব আজীজ এবং তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও বিপ্লবীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর জুলাই যোদ্ধাদের অবমাননা করে বক্তব্য দিয়েছেন এবং মাহবুব আজীজ জুলাই জাদুঘর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের এই ধরনের বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক বক্তব্যকে সাধারণ মানুষ ও জুলাই যোদ্ধারা ‘কুৎসিত ম্যাৎকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জনমনে এখন গভীর প্রশ্ন উঠেছে যে, প্রকাশ্যে এভাবে বিপ্লবীদের অবমাননা চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সচেতন নাগরিক সমাজ আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, জনমানুষের আবেগ নিয়ে এমন খেলার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের ফলে যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তবে তার দায়ভার কে নেবে—তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা চলছে।







