রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভোরে তাদের আটক করা হয়।
এর আগে মঈনের আরও চার সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)।
১১ এপ্রিল শ্যামলীর সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাত আরও সাত-আটজনকে অভিযুক্ত করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিত। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল সকালে তারা শ্যামলী ৩ নম্বর সড়কে বাদীর বাসার সামনে গিয়ে দরজা খুলতে বলে। বাদীর স্ত্রী দরজা খুললে মঈন তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫ লাখ টাকা দিতে চাপ দেয় এবং টাকা না দিলে তার স্বামী-স্ত্রীকে ক্ষতির হুমকি দেয়।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাদী অন্য একটি কক্ষে আশ্রয় নেন এবং তার ছোট ভাইকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে তার ভাই এসে পৌঁছালে আসামিরা ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আশপাশে লোক জড়ো করতে থাকে।
একপর্যায়ে প্রায় ৫০-৬০ জনকে নিয়ে তারা সিকেডি হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তারা উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, তারা হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে হুমকিমূলক স্লোগান দেয় এবং অপমানজনক ভাষায় গালাগালি করে। এমনকি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, যা স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর ১১ এপ্রিল রাতে যুবদলের শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল গভীর রাতে সিকেডি হাসপাতালে গিয়ে অধ্যাপক কামরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন।
অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি কখনো সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলেননি, তবে হাসপাতালের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার লোকজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে দাবি করা হয় যে, হাসপাতালের এক কর্মী তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে, যা হাসপাতাল থেকেই পরিশোধ করতে হবে—এভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
পরে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, তদন্ত করে দেখা গেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংগঠনের কেউ নন, বরং সংগঠনের নাম ব্যবহার করছেন। তিনি জানান, এ ধরনের ঘটনায় তাদের দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।







