ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ যে ব্যাংক একা আহরণ করে, সেই ব্যাংকে নতুন করে কোনো অস্থিরতা বা ‘অভ্যুত্থান’ সহ্য করা হবে না।
ব্যাংক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে দলীয়করণ করা হলে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কোনো ধরনের দলীয় সংকীর্ণতা বা অপসংস্কৃতি কায়েম করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা মোকাবিলা করার ঘোষণা দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের লড়াই কেবল রাজনীতির পট পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং শিক্ষা, অর্থনীতি ও আইন অঙ্গনের আমূল সংস্কারের জন্য। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদ ও সরকার ‘জুলাই আন্দোলনের’ ফসল। তাই জুলাই বিপ্লবের চেতনার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নিলে সরকার রক্ষা পাবে না। ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জনগণ ইতিমধ্যে রাজপথে নেমেছে এবং সফল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।
সেমিনারে তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অসম্ভব। ব্যাংকগুলোতে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর আধিপত্য বা দলীয়করণ বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। আন্দোলনের সফলতা নিয়েই ঘরে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা।







