প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন করে একটি অত্যাধুনিক বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে এমন একটি ভবনের নকশা করা হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি মাটির নিচে বাংকার ও সুড়ঙ্গ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এটি ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া হলেও সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবতার সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশান-২-এর নিজস্ব বাসভবন থেকেই রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও সেটি আপাতত শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য রাখা হচ্ছে। এর মধ্যেই নতুন একটি স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখছেন।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড বা বেইলী রোড এলাকায় বাসভবনের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে, যাতে সচিবালয়, সংসদ ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করা যায়। তবে এই পরিকল্পনার পেছনে ব্যয়ের পরিমাণ বা অর্থায়নের উৎস নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য সামনে আসেনি, যা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা ইতোমধ্যে সম্ভাব্য জায়গা নির্ধারণের কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু যমুনা ভবন প্রস্তুত থাকার পরও সেখানে না ওঠার সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখছেন অনেকেই।
নেটিজেনদের একটি বড় অংশের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে যুদ্ধঝুঁকিতে থাকা কোনো দেশ নয়, যেখানে এ ধরনের উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা অবকাঠামো জরুরি হয়ে পড়ে। তাদের প্রশ্ন, যখন জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপের মতো সমস্যায় সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে, তখন এ ধরনের বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল প্রকল্প কতটা যৌক্তিক।
সমালোচকদের অভিযোগ, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে সরকার এমন প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা জনদুর্ভোগের বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, এটি জনগণের চাহিদা থেকে বিচ্ছিন্ন এক ধরনের সিদ্ধান্ত, যা জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।







