সংকটে থাকা পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সাবেক মালিকদের আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ করে দেওয়াকে দেশের আর্থিক খাতের জন্য উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান। বৃহস্পতিবার রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকিং খাতের সুশাসন ও জবাবদিহিকে মৌলিক প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই অধ্যাপক উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে জারি করা অধ্যাদেশে সাবেক মালিকদের সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে নতুন ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’-এ সেই অবস্থান থেকে সরে আসা হয়েছে। এর ফলে অর্থের বিনিময়ে সাবেক মালিকদের পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সেলিম রায়হান জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের সময় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক ৩৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। অথচ সাবেক মালিকেরা মাত্র ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ আগাম পরিশোধ করেই ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারেন। এই প্রক্রিয়াকে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় উদ্ধার উদ্যোগকে বেসরকারি পুনর্বাসনে পরিণত করা’ বলে অভিহিত করেছেন।
এই অর্থনীতিবিদ সতর্ক করে বলেন, ঋণ অনিয়ম ও আমানতকারীদের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যদি সহজে নিয়ন্ত্রণে ফেরেন, তবে তা পুরো খাতে ভুল বার্তা দেবে। এতে প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতারা অনিয়ম করতে উৎসাহিত হবে এবং সৎ ব্যাংকার ও সাধারণ আমানতকারীদের আস্থা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সবশেষে তিনি সরকারকে এই আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। ড. সেলিম রায়হান বলেন, প্রকৃত সংস্কার তখনই সম্ভব হবে যখন জনগণ দেখবে অর্থনৈতিক অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি পরিবর্তন করা হচ্ছে না। জনগণের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে কড়া আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।







