তীব্র সমালোচনা ও জনরোষের মুখে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন জার্মান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং টঙ্গীর প্রভাবশালী নেতা শেখ বাদল আহমেদ। শুক্রবার টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁর অবাধ যাতায়াত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
শেখ বাদল জার্মান আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ পদে আসীন হওয়ার পাশাপাশি গত ২০২৩ সালের নির্বাচনে খুলনা-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও পুলিশের ডিসি অফিসে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয় ছাত্র-জনতা একে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন হিসেবে অভিহিত করে তাঁর গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
গ্রেপ্তারকৃত বাদলের বিরুদ্ধে টঙ্গী এলাকায় ‘জাভান হোটেল’ নামক প্রতিষ্ঠানে মদের বার পরিচালনা এবং অসামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা চালানোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও, জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যে তিনি হয়তো বিশেষ কোনো মহলের ছত্রছায়ায় গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে পুলিশ তাঁকে আইনের আওতায় আনতে বাধ্য হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করে তাঁর অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।







