ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বা শ্যাডো কেবিনেট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। দলটির একটি বিশেষজ্ঞ টিম এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সংসদ সদস্য, সিনিয়র নেতা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক এ কাঠামো গড়ে তোলা হবে।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ছায়া মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি কথিত তালিকা ছড়িয়ে পড়লেও সেটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া বলে দাবি করেছেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখনো কোনো চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত টিম তাদের প্রস্তাবনা দেবে, এরপর অনুমোদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ফেব্রুয়ারিতে ফেসবুক পোস্টে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা উল্লেখ করেন। পরবর্তী পোস্টে তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলও ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করলে সংসদের ভেতরে-বাইরে কার্যকর বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকেও ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে। তাদের মতে, এটি সরকারের কার্যক্রমে নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৭ জন সদস্য নিয়ে বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর সরকারকে পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যেই জামায়াত এই উদ্যোগ নিয়েছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা একটি প্রচলিত ধারণা, যেখানে বিরোধী দল সরকারকে পর্যবেক্ষণ করে, নীতিগত সমালোচনা করে এবং বিকল্প প্রস্তাব দেয়। যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যমান।
উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত তালিকায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য নেতাদের নাম উল্লেখ থাকলেও দলীয় সূত্র বলছে, এর সঙ্গে বাস্তব কোনো প্রক্রিয়ার সম্পর্ক নেই।







